রাঙা নদীর পারে এসে দাঁড়িয়েছি, এমন সময় ধরল এক শয়তান বুড়ো পাখি।
– কোথায় যাচ্ছ?
– ওপারে।
– কেন যাচ্ছ?
– বলব কেন?
– ফেরা যায় না কিন্তু।
– সে জানি।
– আপিং ক' পয়সার দেব?
– আপিং কেন?
– ব্যথা লাগবে না।
কথাটা মন্দ বলেনি। চিনচিনে একটা ব্যথা তো আছেই। কেউ কোথাও নেই, টুক্ করে পকেটে ঢুকিয়ে নেব।
– দাও তা'লে এই টাকায় যতটা হয়।
– কী দেব?
– কেন, আপিং?
– আপিং নেই।
ব্যাটা ধুরন্ধর, অথবা পাগল। অথবা আবগারি দোকানের দাঁড়ে বসতো কোনো জন্মে, বুলিটা মনে রেখেছে।
– অনেক বছর হয়ে গেল।
– কিসের?
– কেউ ফেরে না।
– তাতে কী?
– আপিং ক' পয়সার দেব?
– ধুস্।
– গান শোনবা?
– কী গান জানো?
গলা ঝেড়ে নিয়ে পাখিটা শুরু করল – “কাঁটা লাগা! ঢিনচ্যাক ঢিনচ্যাক ঢিনচ্যাক, কাঁটা লাগা!”
– থাক থাক। বরং কৃষ্ণবিষয়ক হোক একটা। জানা আছে?
– নেই আবার? এই শোনো। হরি দিন তো গেল, সন্ধে হল, এবার আমায় কাঁধে তোলো, জলদি চলো, জলদি চলো, ঐ দেখা যায় ঘাটের আলো...
– এ রকম তো ছিল না।
– কী রকম ছিল?
– ঠিক মনে পড়ছে না।
– বাদ দাও। আর ক' মিনিট?
মায়া বাড়িয়ে লাভ নেই, ঠিকই। শেষ চেকপোস্ট পেরিয়ে পেছনের সাঁকোটা জ্বালিয়ে দিয়ে এসেছি, যাতে কেউ ধাওয়া করতে না পারে।
– চললুম।
– কেউ ফেরে না কিন্তু।
– ফিরে হবেটা কী? জিভে স্বাদ পাই না যে।
– রামনাম সথ্ হ্যায়। মা নেই তোমার?
কথা না বাড়িয়ে খেয়ায় গিয়ে উঠলাম। পাখিটা তখনও পেছন থেকে বলছে – ”ফেরা যায় না কিন্তু। আপিং ক'পয়সার দেব?"