Saturday, 25 June 2022

রাঙা নদীর খেয়া



রাঙা নদীর পারে এসে দাঁড়িয়েছি, এমন সময় ধরল এক শয়তান বুড়ো পাখি।

কোথায় যাচ্ছ?

– ওপারে।

কেন যাচ্ছ?

– বলব কেন?

ফেরা যায় না কিন্তু।

– সে জানি।

আপিং ক' পয়সার দেব?

– আপিং কেন?

ব্যথা লাগবে না।

কথাটা মন্দ বলেনি। চিনচিনে একটা ব্যথা তো আছেই। কেউ কোথাও নেই, টুক্ করে পকেটে ঢুকিয়ে নেব।

– দাও তা'লে এই টাকায় যতটা হয়।

কী দেব?

– কেন, আপিং?

আপিং নেই।

ব্যাটা ধুরন্ধর, অথবা পাগল। অথবা আবগারি দোকানের দাঁড়ে বসতো কোনো জন্মে, বুলিটা মনে রেখেছে।

অনেক বছর হয়ে গেল।

– কিসের?

কেউ ফেরে না।

– তাতে কী?

আপিং ক' পয়সার দেব?

– ধুস্।

গান শোনবা?

– কী গান জানো?

গলা ঝেড়ে নিয়ে পাখিটা শুরু করল – “কাঁটা লাগা! ঢিনচ্যাক ঢিনচ্যাক ঢিনচ্যাক, কাঁটা লাগা!”

– থাক থাক। বরং কৃষ্ণবিষয়ক হোক একটা। জানা আছে?

নেই আবার? এই শোনো। হরি দিন তো গেল, সন্ধে হল, এবার আমায় কাঁধে তোলো, জলদি চলো, জলদি চলো, ঐ দেখা যায় ঘাটের আলো...
 
– এ রকম তো ছিল না।

 কী রকম ছিল?

– ঠিক মনে পড়ছে না।
 
বাদ দাও। আর ক' মিনিট?

মায়া বাড়িয়ে লাভ নেই, ঠিকই। শেষ চেকপোস্ট পেরিয়ে পেছনের সাঁকোটা জ্বালিয়ে দিয়ে এসেছি, যাতে কেউ ধাওয়া করতে না পারে।

– চললুম।

– কেউ ফেরে না কিন্তু।

– ফিরে হবেটা কী? জিভে স্বাদ পাই না যে।

 রামনাম সথ্ হ্যায়। মা নেই তোমার?

কথা না বাড়িয়ে খেয়ায় গিয়ে উঠলাম। পাখিটা তখনও পেছন থেকে বলছে – ”ফেরা যায় না কিন্তু। আপিং ক'পয়সার দেব?"


No comments:

Post a Comment